এটি একটি কাল্পনিক নমুনা পাতা — নকশা দেখানোর জন্য বানানো। এখানে যে মানুষটির কথা বলা হয়েছে, তিনি বাস্তবে নেই; গল্পটি পার্বত্য চট্টগ্রামের হাজারো শিল্পীর জীবনের চেনা ছবি থেকে গড়া।
নমুনা পাহাড়ি শিল্পীর জন্ম রাঙামাটির এক জুমিয়া পরিবারে। শৈশব কেটেছে জুমঘরের মাচায় বসে মা-বাবার গান শুনে — ধান রোপণের দিনে, ফসল তোলার রাতে, আর বৃষ্টির মৌসুমে পাহাড়ি ছড়ার পাড়ে। বাঁশের বাঁশিতে প্রথম সুর তোলেন আট বছর বয়সে, দাদুর হাতে বানানো বাঁশিতে।
কাপ্তাই হ্রদের জল যখন তাঁদের গ্রাম ঢেকে দেয়, তখন তিনি কিশোর। পরিবারের সাথে নতুন পাহাড়ে বসতি গড়ার সেই অভিজ্ঞতা পরে তাঁর সবচেয়ে বেদনার গানগুলোর জন্ম দেয়। ডুবে যাওয়া গ্রাম, হারানো জুম আর নতুন করে শুরু করার গল্প — এই তিনটি সুরই তাঁর গানের মূল।
পরের পাঁচ দশক তিনি বিজুর উৎসবে, গ্রামের বিয়েতে আর স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন, তরুণদের বাঁশি বাজানো শিখিয়েছেন, আর প্রবীণদের মুখে শোনা পুরোনো গানগুলো খাতায় লিখে রেখেছেন। আজও সন্ধ্যায় উঠানে বসলে পাড়ার ছেলেমেয়েরা তাঁকে ঘিরে ধরে — একটা গান, একটা গল্প।
